Archive for the ‘কবিতা’ Category

মাননীয় ঈশ্বর,

আপনি হেরেছেন,
বাংলাদেশ জিতেছে।

সত্যকে স্বীকার করা এখানে গুজব,
মিথ্যাকে স্বীকার করা মাথা নোয়ানো মর্যাদা।

জনতার সংঘবদ্ধ সংগ্রাম এখানে হয় দলীয় ষড়যন্ত্র,
অথচ রাজনৈতিক রাহাজানি আখ্যায়িত হয় রাষ্ট্রীয় গনতন্ত্র।

মাননীয় ঈশ্বর,

শক্তির বিনাশ হয় না! তবে এটাও সত্যি যে বাংলায় শক্তির উৎপত্তিস্থল দালালকেন্দ্রিক, ধর্মান্ধ;
শক্তির উৎপত্তিস্থলে মনুষ্যত্বহীন নপুংসক ক্ষমতা, চাটুকারিতায় যারা চেটে নেয় বাংলার সম্ভ্রম,
রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট হয় তাদের আত্ম ধর্ষনবোধ সম্পন্ন দর্শন তত্ত্বে।

মাননীয় ঈশ্বর,

বিকারগ্রস্থ মিথ্যাচারে আমাদের বোধশক্তি অতিষ্ঠ,
রাজনীতিবিদগণের প্রলাপ এখন উচ্চমার্গীয় ভাষাশৈলী,
সুশীল সম্প্রদায় এখানে দলীয় দালাল,
বুদ্ধিজীবীগন রাষ্ট্রীয় আবর্জনা।
চেতনাবিদগন কিবোর্ডে অতিশয় ব্যস্ত বক্তব্য সংস্কার-প্রকাশে,
অশিক্ষিত জনশক্তিকে সন্ত্রাসবাদে লেলিয়ে করানো হচ্ছে কর্মসংস্থান,
আর বাংলার সাংবাদিক ভাইয়েরা নিজেরাই ব্যস্ত নিজেদের নিরাপত্তা ঢাল অটুট রাখতে।

হায় ঈশ্বর,
‘৭১ এ অর্জিত
এই কেমন মাইরি রাষ্ট্র?

Advertisements

প্রেমনামক লীলাখেলায় মত্ত তুমি হও বেশ্যা,
আর কর্পোরেট খাতিরে সেক্স ওয়ার্কার।
নারীবাদী তুমি শুশীল সমাজের বিক্রিত পন্য।

বীর্য তোমার পূর্ণতা পায় অধিক অক্ষম শুক্রাণুতে,
আর তাতেই তুমি রঙধনু মনের সমকামীতায় আসক্ত,
পুরুষবাদী তুমি শুশীল সমাজের নষ্ট মুক্তমনা।

সেলফি দিয়ে ধারণ করো নিত্য নতুন সংস্কৃতি,
পুরানো ঐতিহ্য কে বিসর্জনে রেখে-
ধর্মীয় বিবেকবোধ প্রকাশ পায় উন্মুক্ত অঙ্গ শোভায়,
মানবতা ফুটে উঠে লেন্সের চতুর ফোকাসের সম্মুখ পানে।
কল্কির টান না শিখেই ইয়াবার জোরে গায়ে জড়াচ্ছো-
গাঁজা পাতার ছবি সম্বলিত টিশার্ট,
আর তাতেই দাবি করো গাঁজার বৈধতা,
আধুনিক যুগ উপযোগী তুমি স্মার্ট গাঁজাখোর!

ধর্ষকদের চাই অহেতুক সামাজিক সমালোচনা,
খুনীদের চাই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাব,
দুর্নীতিবাজদের চাই জনতার মধ্যাঙ্গুলির বিদ্রুপ।
মানুষ মরে গেলে তারকা খ্যাতি পায়,
আর বেঁচে থাকলে ডাইল খেয়ে পচে যায়।

বাঙ্গাল আম জনতার একটাই সকল চাওয়া-পাওয়া,
সবার সব আলোচনা-সমালোচনার প্রলয়ংকারী
বিচার স্থান সর্বদা থাকুক সাথে,
এই মহান অসুস্থ ফেসবুক।

১৩.০৭.২০১৫

ছেলে দেখতে শুশ্রী-ফরসা
পিঙ্কিস তার দুই ঠোঁট,
মাথায় সব সময় আঁচড়ানো কালো রঙা কেশ ।

ছেলে ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভালো,
অসম্ভব মুখস্থ মেধাবী; সব সময় একটি গুছানো স্বপ্ন
বয়ে চলে তার জীবনের গতিপথে ।

ছেলেটি ধূমপান করে না, গাঁজা সে তো
অনেক পরের ব্যাপার, মদ্যপান পর্যন্ত করে না ।
ছেলে তাই সকলের চোখে খুবই ভাল, নম্র এবং ভদ্র ।
কারো সাথে চেঁচিয়ে কথা বলে উঠে না, গালিগালাজ অপছন্দ ।
আর বেয়াদবি, মারামারি ? কখনো চোখ তুলে কাউকে
শাসিয়েছে কিনা জানা নেই বালকটির ।

ছেলেটির জীবনে একটি মাত্রই প্রেম,
শিক্ষাজীবন শেষ করে এখন সে চাকরি করে,
সে এক বিশাল কারবার, কাড়ি কাড়ি টাকা আর
স্বপ্ন পুরনের এক একটি ধাপের টিকিট তার পকেটে ।

ছেলেটি এখন বিবাহিত, সুখের সংসার
সাথে একটি ভালবাসার বাচ্চা ।
সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা,
অফিস শেষে বাসায় ফেরত নতুবা মাঝে মাঝে
কলিগদের নিয়ে কর্পোরেট আনন্দে মাতোয়ারা।
কিঞ্চিৎ বৌয়ের ঠ্যালায় মাঝে মধ্যে বৌ-বাচ্চা নিয়ে
ঘুরতে-খেতে বের হওয়া।

ছেলেটি তাই অসম্ভব ভালো ও ভদ্র, শিষ্টাচার আর সামাজিকতায়-
ভরপুর সকলের চোখে সেই উত্তম আর বাকি সব আঁধারে নষ্ট যুবক,
আঁধারেই হারিয়ে যায় তাদের অগোছালো বেদনার জীবন-যাপন ।

আমার বড্ড হিংসে হয় নাইস গাই ।

কেমন আছো, ভাল নাকি খারাপ কোনটাই শুনতে চাই না,
শুধু জানতে চাই ঠিক কেমন আছো তুমি? কেমন করে
কাটছে তোমার অষ্ট প্রহরের বেলা গুলো, অবেলায় কান্না করে;
নাকি কারো পাশে বসে ঝিল দেখায় ব্যস্ত থাকো তুমি?
হয় তো পাশে প্রিয় কারো বাহু ধরে চলন্ত রিকশায় করে,
শ্রাবনের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে
পার করে দিচ্ছ তোমার পড়ন্ত বিকেলের প্রহর গুলো?
নাকি ব্যস্ত আছো মনের কথা গুলো লেখায় প্রকাশের
জন্য যার প্রতিটি শব্দ গেঁয়ে ওঠে আমাদের সব ইচ্ছা-স্বপ্ন।

কেমন কাটছে এখন তোমার সন্ধ্যেটা নতুন শহরে এসে?
নিশ্চয় কোন কফি শপে অথবা কোন এক পার্কে বসে নির্বাক
গল্প করে নতুবা অনুভব করছো তুমি আমায় নিকোটিনের প্রতিটি টানে;
নাকি ঝগড়া করছো প্রকৃতির সক্ষমতা আর তোমার অক্ষমতা নিয়ে?
ঝেড়ে ফেলে দাও এই সব ফালতু সেন্টিমেন্ট, তুমি হচ্ছো ইচ্ছে সুখী,
প্রকৃতি কারো ইচ্ছা সুখের বাঁধা হতে পারে না, তোমার সুখেও নয়।

তুমি বলেছো অনেকদিন হয় নিজেকে ভেজাও না বৃষ্টিতে, কি করে
ভেজাবে বলো, সব কটা জলের ফোঁটা আমার ভেতরে আঁটকে আছে,
যদি হটাত করে বৃষ্টিতে স্নাত হয়ে যাও, বুজে নিও তখন
সবই তোমার আবেগ যার প্রতিটি ফোঁটায় আমার প্রতিফলন;
পাঁচ দুপুরের নির্জনতায় জমিয়ে রেখেছি এই প্রতিটি বেদনার জল,
শুধু তোমাকে বৃষ্টি স্নান করাবো বলে, কেমন আছো তুমি এখন?

তুমি লিখেছো গ্রীষ্মকালটা আমরা একসাথে কাটিয়েছি,
পূর্ণাঙ্গ একটা ঋতুকাল আমায় ভালবাসতে চেয়েছিলে তুমি।
সমস্ত শরীর জুড়ে বর্ষার বৃষ্টিতে অবগাহন দু’জনের,
শরতের পাগল করা নীলাকাশ, হেমন্তের রোদ্র-ছায়া;
কিংবা প্রচন্ড শীতে উষ্ণতার আশায় জড়িয়ে ধরা অথবা
বসন্তে নতুন প্রকৃতির খুনসুটিতে দুজনের ছুটে বেড়ানো;
কেমন হতো খুব নাকি জানতে ইচ্ছে করে তোমার।

তোমার পাঠানো পূর্ণেন্দু পত্রীর “কথোপকথন ১-৫” পর্ব,
আমি উল্টেও দেখিনি পৃষ্ঠা গুলো, আমার বড্ড অপছন্দ
তার লেখা ছন্দ গুলো; আমার কাছে আমার আদর্শ
আমি, অতঃপর আমি।
আমি দশ দিগন্তের অন্ধকার হবো।
আমি বুজতে পারি তোমার জন্য আমার লেখা
কবিতা গুলো কতটা নিষ্ঠুর কিন্তু মমতাময়ী হয়ে ওঠে,
আমার হৃদয়ে একই সাথে ঘৃণা করতে পারা আবার
একই সঙ্গে বুকে কষ্ট বেঁধে দিয়ে ভালবাসতে পারার সামর্থ্য আছে,
তুমি বোধ হয় জানো না সেটা, আমার কি তাতে?

কোন এক ফাগুনের প্রথম প্রহরে লিখেছিলে,
“আমি শঙ্খ হবো
চন্দনের লাল বেনারসি পরে
সিথির সিঁদুর হবে রক্তাত !
আমি আদিমতা ভালবাসি;
শাদা শবযাত্রার লাল মৃত্যু পদধ্বনি
ঝাপিয়ে তোলে আমার নগ্ন দেহ,
আমি চন্দন হবো।
আচ্ছা শঙ্খের দাম কতো? কিনবে?
কিনবো তো, কি মুল্য তার?
তোমার রক্ত খুঁটে খুঁটে
এক বাটি চন্দনের গন্ধ !!”

শুধুমাত্র তোমার ইচ্ছা সুখের জন্য
অজস্র কান্না আমার এই অবেলায়।
ভালবাসি বিকাল, ভালবাসি কি?
অস্থির খুব অস্থির মন আজ,
বুকের খাঁজ থেকে ভেসে আসা
কাঁঠাল চাপা ফুলের মাদকী সুঘ্রান
আমি খুঁজে ফিরি ভয়ানক এক
তীব্র নেশার উন্মাদনায়;
যে উন্মাদনায় প্রকম্পিত হতে
চাইবে তোমার হৃদয় ।

প্রকম্পিত সেই হৃদয়ের আবেগ দিয়ে
ঢেকে দিতে তুমি চাইবে দুষ্টু
কাঁপা কাঁপা শঙ্খ হাসি,
যে হাসির গভীরে রয়ে যায়
এক রাশ ভালবাসার অপূর্ণতা !

২৮ পৌষ, ১৪২০
১১.০১.২০১৪


তোমাকে লেখার নেশা,
ধর্ষিত হয় নির্ঘুম রাত্রির অবয়বে।
বারবার প্রতি ক্ষনে গুপ্তবেশে,
তোমাকে আঘাত হানে অকথ্যকথন।
তোমাকে গড়ার নেশা বুদ হয়,
অতৃপ্তিকর মস্তিস্কে,
বারবার প্রতিক্ষনে অব্যক্ত প্রনয়ে,
তোমাকে চুর্ন করে আত্ম-প্রলাপ।
তোমার অবাঞ্ছিত লাঞ্চনায়,
কবর খুঁড়েছে জাগতিক সকল প্রবঞ্চন।

তুমি শীতল, অতন্দ্র দাসত্ব।
তুমি শাপগ্রস্ত ঊল্লাস, নিথর সম্মোহ।

২০১৬ইং

স্বার্থহীন ভালোবাসার খোঁজে,
আমরা একদিন অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলাম।

যে যার স্বার্থ নিয়েই গৃহে ফেরে,
যে যার স্বার্থ বুঝে নিয়েই
মেতে ওঠে রাত্রির জৈবিক উল্লাস।
যে যার স্বার্থ নিয়েই
কড়া নাড়ে ভালোবাসার ভোরে,
ফিরে পেতে চায়,
রাত্রির যৌবন জ্বলসে ওঠা নিষ্পাপ অভিব্যক্তি।

তুমি কি জানতে,
তাঁর রাত্রি পেরিয়ে কিভাবে সকাল হয়?
বিনিদ্র চোখে নির্লিপ্ত চাহনি
আর দুঠোটে শব্ধহীন প্রলাপ,
তাঁর ভালোবাসা ঘুমোয় অন্য শরীরে,
আর জেগে সে পাহারা দেয় অশান্ত,
অবাধ্য অনূভুতিগুলোকে।

তুমি কি জানো তাঁর সেই রাত্রি যাপনের,
নিরব কান্না কতদূর কতটা নিস্তব্ধতা,
ছড়িয়ে দিতো তারা জ্বলা আকাশে?

স্বার্থহীন ভালোবাসার খোঁজে,
এই আমরাই একদিন অঙ্গীকারবদ্ধ থেকেছিলাম।

১১ জুন, ২০১৭

আমাকে রেপ করো,
কোনো ডাক্তারি চেক আপ হবে না,
হবে না কোনো প্রকার মামলা-মোকাদ্দমা,
কথা দিচ্ছি-
আমিই তোমাদের নোংরা
যৌনতার মাধ্যম হবো,
আমার যৌবন হবে,
তোমাদের কুৎসিত চাহনির খোরাক।

আমাকে পুনরায় রেপ করো,
কোনো প্রকার বাধাত্মক প্রলাপ
বকবো না,
সমাজে নিজেকে দিয়েই প্রচার করবো-
আমার স্বাধীন চেতা মন, আমার দৈহিক ভাঁজের ঢেউ,
তোমাদের যৌনাকাংখা জাগ্রত করার ঐচ্ছিক দলিল।
বিনা সঙ্কোচে ইয়াবা বড়ির মতই
আমাকে গ্রোগাসে টেনে নিতে পারো,
তোমাদের বহুগামী অণ্ডকোষের তান্ডব মঞ্ছে।
আমি সঁপে দিবো আমার নিস্বার্থ যৌবন,
তোমাদের সভ্য মাদক উল্লাসে।

আমি আদিম, মহা প্রলয়োংকারী নেশা,
মানব সৃষ্টি সূচনার প্রাম্ভব হতেই,
আমার শারীরিক যৌবন তোমাদের
মদ্যপ জলসা ঘর।

হাজার বছরের আরাধ্য সাধন তীর্থ,
আমার এই জৈবিক শরীর,
যেথায় বাস করে সৃষ্টিকর্তার
নিকৃষ্টতম ঘৃণ্য অস্তিত্ব!

আহমেদ বাপ্পি

হেলুসিনেট যুবক