Archive for July, 2018

প্রেমনামক লীলাখেলায় মত্ত তুমি হও বেশ্যা,
আর কর্পোরেট খাতিরে সেক্স ওয়ার্কার।
নারীবাদী তুমি শুশীল সমাজের বিক্রিত পন্য।

বীর্য তোমার পূর্ণতা পায় অধিক অক্ষম শুক্রাণুতে,
আর তাতেই তুমি রঙধনু মনের সমকামীতায় আসক্ত,
পুরুষবাদী তুমি শুশীল সমাজের নষ্ট মুক্তমনা।

সেলফি দিয়ে ধারণ করো নিত্য নতুন সংস্কৃতি,
পুরানো ঐতিহ্য কে বিসর্জনে রেখে-
ধর্মীয় বিবেকবোধ প্রকাশ পায় উন্মুক্ত অঙ্গ শোভায়,
মানবতা ফুটে উঠে লেন্সের চতুর ফোকাসের সম্মুখ পানে।
কল্কির টান না শিখেই ইয়াবার জোরে গায়ে জড়াচ্ছো-
গাঁজা পাতার ছবি সম্বলিত টিশার্ট,
আর তাতেই দাবি করো গাঁজার বৈধতা,
আধুনিক যুগ উপযোগী তুমি স্মার্ট গাঁজাখোর!

ধর্ষকদের চাই অহেতুক সামাজিক সমালোচনা,
খুনীদের চাই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাব,
দুর্নীতিবাজদের চাই জনতার মধ্যাঙ্গুলির বিদ্রুপ।
মানুষ মরে গেলে তারকা খ্যাতি পায়,
আর বেঁচে থাকলে ডাইল খেয়ে পচে যায়।

বাঙ্গাল আম জনতার একটাই সকল চাওয়া-পাওয়া,
সবার সব আলোচনা-সমালোচনার প্রলয়ংকারী
বিচার স্থান সর্বদা থাকুক সাথে,
এই মহান অসুস্থ ফেসবুক।

১৩.০৭.২০১৫

Advertisements
আত্মপ্রকাশের সামনে দাঁড়িয়েছিলে তুমি।
তুমি মানে- সামাজিক নারী,
মানে সংসার, সন্তান, বাড়িভাড়া, মরিচ, পেঁয়াজ,
মানে দশটা-পাঁচটা , বিকেলে ক্রিসেন্ট লেক
নয়তো বেইলি রোডে নাগরিক নটনটি,
শুধু অভিনয়,
শুধু কথার মুখোশ, চমৎকার, বনেদি মসৃণ।
তুমি- মানে সুস্থতার নামে এক জটিল জীবন,
শাড়ি, টিভি, ভিসিআর, ।
দুচারটে গোপন চুম্বনে গাঁথা পুরোনো প্রেমের স্মৃতি,
মানে সুঘ্রান, মোহময় সেক্স- এ‍্যাপিল,
মানে সুস্থতা, মূলত যা শোষণ,
মানে বেঁচে বর্তে আছি,
এই তো, ভালই…
তুমি- মানে প্রতারণা, শোকেসে সাজিয়ে রাখা কার্ল মার্কস, লেনিন,
মানে সভামঞ্চে শ্রমিক শ্রেনীর পক্ষে তেজী শব্দাবলী,
মানে চার ইঞ্চি ফোমে গা ডুবিয়ে
নগ্ন স্তনে হাত, চোখে স্বপ্ন-
ব্যালকনিসহ বাড়ি,
ব্যক্তিগত দ্রুতযানে স্মৃতিসৌধ দেখে আসা।
আত্মপ্রকাশের পথ আগলে দাঁড়িয়েছিলে তুমি।
তুমি- মানে কারাগার, বন্ধনের সোনালি শিকল,
মানে মধ্যরাতে টলোমলো পৃথিবীর ঘরে ফেরা নয়
সুগন্ধি মাতাল মাংশে ডুবে যাওয়া উষ্ণ বিছানা।
তুমি- মানে ঝলোমলো সুখ, হিরক-ব্যর্থতা,
মানে ছিন্নমূল দুপুরের ফুটপাথে ডালরুটি নয়
আলস্যের মেদ মেখে বেড়ে ওঠা শোভন জীবন,
ঘুষ, কালো টাকা, .মানে ককটেল পার্টি,
মানে বন্ধুর পত্নির কাঁধে হাত, আবডালে ছোঁয়াছুঁয়ি,
মানে কন্যার স্বামীর সাথে মা উধাও
ব্লু- ব্লু-
তবু, রমনীরা সতিসাধ্বি, পত্নিপরায়ন স্বামী।
সুস্থতার ভূমিকায় ভাঁড়েরা মানিয়ে যায় অবিকল,
কেবল বাড়তে থাকে রক্তচাপ, মুত্রে চিনি আর
নিদ্রাহীন রাত্রির প্রহর-
কোথাও সুস্থতা নেই।
এ সময়ে শোষণের সুশোভন নামই সুস্থতা-
তুমি সেই সুস্থতার নির্বোধ প্রতীক।
আত্মপ্রকাশের সামনে তুমি দাঁড়িয়েছিলে।
(হোটেল স্মরনী, নওগাঁ)